স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে অবিশ্বাস্যভাবে ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা এবং বর্তমান সম্পদের বিবরণী বিশ্লেষণ করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী মীর শাহে আলমের নিজের নামে স্থাবর সম্পদ ছিল মাত্র ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ জমি। তবে ক্ষমতা ও দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে তার এই স্থাবর সম্পদের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। তিনি নিজস্ব নামে নতুন করে আরও ২৪২ শতক জমি ক্রয় করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মাত্র ৯০ দিনে কীভাবে একজন প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ এতটা বৃদ্ধি পেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ৫ জুলাই যমুনা টেলিভিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘প্রতিমন্ত্রী হবার পর সম্পদ বেড়েছে ৮ গুণ’ শীর্ষক এই বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই তা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টির কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে যমুনা টিভির পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে ডিলিট বা সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের তীব্র চাপ এবং এক প্রভাবশালী মহলের নির্দেশনার কারণেই গণমাধ্যমটি তাদের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজ এবং সচেতন নেটিজেনদের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে, অনেকেই একে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করছেন।
তবে যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উত্থাপিত এই বিপুল সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার নির্বাচনী হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য আগে থেকেই উল্লেখ ছিল বলে পরবর্তীতে তার অনুসারী ও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
তা সত্ত্বেও, প্রতিবেদনটি এভাবে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি জনমনে আরও বড় ধরনের সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।