সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ফ্যাক্ট চেক:ডেলিভারি রোগীসহ সিএনজি কাঁধে তুলে খাল পার করার ভাইরাল ভিডিওটি চট্টগ্রামের নয়

চট্টগ্রামে প্রবল স্রোতের মধ্যে ডেলিভারি রোগী বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশা কাঁধে তুলে স্থানীয়দের খাল পার করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইউরো বাংলা ফ্যাক্ট

চট্টগ্রামে প্রবল স্রোতের মধ্যে ডেলিভারি রোগী বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশা কাঁধে তুলে স্থানীয়দের খাল পার করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইউরো বাংলা ফ্যাক্ট চেকে জানা গেছে, ভিডিওর দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। ঘটনাটি চট্টগ্রামের নয় এবং সিএনজিতে কোনো ডেলিভারি রোগীও ছিলেন না।

সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রসব বেদনায় ছটফট করা এক গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে সিএনজিটি কাঁধে তুলে খাল পার করছেন স্থানীয়রা।

ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ একটি থ্রি-হুইলার সিএনজি অটোরিকশা কাঁধে তুলে নদী বা খাল পার করছেন। ভিডিওর শুরুতে সিএনজিটি উঁচু স্থান থেকে নামিয়ে স্রোত পার করতে দেখা যায় এবং অপর প্রান্তে থাকা আরও কয়েকজন সেটি টেনে ওপরে তোলেন। তবে পুরো ভিডিওটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিএনজির ভেতরে কোনো যাত্রী বা ডেলিভারি রোগীকে দেখা যায়নি।

ভাইরাল এই ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে ইউরো বাংলা ফ্যাক্ট চেক টিম। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি চট্টগ্রামের কোনো এলাকার নয়। এটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙাঝিরি খাল এলাকার ঘটনা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিশ্চিত করেন, পাহাড়ি ঢলে রাঙাঝিরি খালের ওপরের বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয় চালক ও সাধারণ মানুষ মিলে অটোরিকশাটি পার করছিলেন। ঘটনার সময় সিএনজির ভেতরে কোনো রোগী কিংবা সাধারণ যাত্রী ছিলেন না। শুধু গাড়িটি পার করার জন্যই স্থানীয়রা এই উদ্যোগ নেন।

ভিডিওর স্থান, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট যে, বান্দরবানের একটি সাধারণ ঘটনাকে চট্টগ্রামের ঘটনা এবং ডেলিভারি রোগী পারাপারের আবেগঘন গল্প সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। সুতরাং, ভাইরাল হওয়া এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন