সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পদ্মাসেতুর সমান ব্যয়ে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প: ৯ হাজার কোটি টাকার সঙ্গে সময়ও বাড়ছে ৪ বছর

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আবারও বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়সীমা সম্প্রসারণের মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আবারও বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়সীমা সম্প্রসারণের মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পটির ব্যয় এক লাফে ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যয়ের দিক থেকে প্রকল্পটি দেশের সবচেয়ে আলোচিত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রকল্পের মেয়াদও আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুমোদন মিললে এটি হবে প্রকল্পটির দ্বিতীয় বড় ব্যয় সংশোধন।

ব্যয় বাড়ল ৫৪ শতাংশ

২০১৭ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। পরে ২০২২ সালে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রথম অনুমোদনের তুলনায় ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫৪ শতাংশ।

এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বেড়ে হবে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, আর চীনের ঋণ সহায়তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

কেন বাড়ছে ব্যয়?

প্রকল্প সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ টাকার অবমূল্যায়ন। প্রথম সংশোধনীর সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৮৬ টাকা, যা এখন বেড়ে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে। শুধু বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণেই অতিরিক্ত ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা ব্যয় যোগ হয়েছে, যা মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় ৩৯ শতাংশ।

এছাড়া নকশা পরিবর্তন ও অতিরিক্ত প্রকৌশল কাজের জন্য আরও ১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। তুরাগ নদের নাব্যতার শ্রেণি উন্নীত হওয়ায় সেতুর উচ্চতা ও নকশায় পরিবর্তন, ভবিষ্যৎ রেল ট্রানজিট করিডোরের সঙ্গে সমন্বয়, বাইপাইলে নতুন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ এবং বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের জন্য অতিরিক্ত র‍্যাম্প নির্মাণও এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং কর-ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে আরও ৩ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ব্যয় যোগ হয়েছে।

অগ্রগতি কত?

২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা, যা প্রথম সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ের ৮৩ শতাংশ।

চার বছর বাড়ছে সময়

প্রকল্পটি মূলত ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থায়ন চূড়ান্তে দীর্ঘসূত্রিতা, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজ পিছিয়ে যায়। এখন প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কী সুবিধা মিলবে?

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো ও বাইপাইল অতিক্রম করে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাবে।

সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি চালু হলে রাজধানীর যানজট এড়িয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দ্রুত সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয়ও কমে আসবে।

তবে ব্যয় ও সময়সীমা দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দক্ষতা, পরিকল্পনা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন