সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

কারাগারে বন্দিমৃত্যু: দুই বছরে সংখ্যাটা তিনশো পেরিয়েছে

দেশে গত দুই বছরে কারাগারে বন্দিমৃত্যুর ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও কারা কর্তৃপক্ষের ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে কারাগারে বন্দিমৃত্যুর সংখ্যা

দেশে গত দুই বছরে কারাগারে বন্দিমৃত্যুর ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও কারা কর্তৃপক্ষের ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে কারাগারে বন্দিমৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২২৭ থেকে ৩৪২ জনের ঘরে পৌঁছেছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃতদের অধিকাংশের মৃত্যুই হয়েছে হৃদরোগ বা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে’।

এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, বন্দিদের মৃত্যুর পেছনের প্রধান কারণ হৃদরোগ। তিনি বলেন, মাদকসেবী বন্দিরা কারাগারে এসে মাদক না পাওয়ার জটিলতা, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে ডিপ্রেশন বা ট্রমাটাইজড হওয়া এবং তীব্র মানসিক চাপের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চিকিৎসক সংকটও আমাদের একটি বড় সমস্যা।

মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত কারাবন্দি ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে পুলিশ হেফাজতে আরও ৩০ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে কারাগারে ১৯০ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনে আরও ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে তারা।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না করে জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ৩৪২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১৮৯ জন, ২০২৫ সালে ১৩৬ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৭ জন মারা গেছেন।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে মানবাধিকারকর্মীরা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্দি ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা কমে আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি কমেনি এবং তা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে না।

এমএসএফ-এর প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান সতর্ক করে বলেন, গণমাধ্যমে আসা সংবাদের বাইরেও অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের চেয়েও বেশি হতে পারে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন