সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

এমপি গাজী নজরুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা, গ্রেপ্তার ১

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে চালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে চালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যেই আমিনুর রহমান (৫৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আমিনুর রহমানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা।

আসামিপক্ষে জামিনের কোনো আবেদন না থাকায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য, ওবায়দুর জানতে পারেন তার ভাগনির সঙ্গে এমপি নজরুলের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পরিবারকে জানানোর পাশাপাশি তিনি এমপি নজরুলকে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এমপি।

সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র এমপি নজরুল ও তার ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। এমপির ধারণা হয়, তার ড্রাইভার ওবায়দুলই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে বিক্রি করেছেন।

ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গত ১৪ জুলাই সকাল ১১টার দিকে এমপি নজরুলের নির্দেশে আসামি আমিনুর কৌশলে ওবায়দুলকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান।

পরে ওবায়দুলকের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওবায়দুলকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এজাহারে ওবায়দুল রহমান অভিযোগ করেন, এ হামলার পর থেকেই আসামিরা তাকে দেখা মাত্রই মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন