সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর মার্কিন সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে: সার্জিও গর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, তার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, তার দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ এখন নতুন যেকোনো মার্কিন বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত এসব কথা বলেন। অত্যন্ত উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইতিবাচক বার্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দেশটির নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণের নির্দেশিকা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) শিথিল ও সংশোধন করেছে। বিশেষ দূত জানান, এই পদক্ষেপ মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি জোরালো বার্তা দেবে। আগামী মাসে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-এর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে এবং ঢাকায় একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগের জোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের গুদামজাতকরণ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার (ওয়্যারহাউজিং) নির্মাণে বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি মজবুত ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ মার্কিন বিনিয়োগ গ্রহণে অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করলে সার্জিও গর আইটি খাতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন কর্পোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং খাদ্য ও ওষুধ মাননিয়ন্ত্রণে মার্কিন ‘এফডিএ’র পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়ে তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দেন।

বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গ। আগের দিন শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বলেন, লাখ লাখ আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা ও আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসনীয়। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আসিয়ানসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আসা মোট আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি আসে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই অব্যাহত সহায়তার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন