সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

এনসিপি কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে পুঁজি করে একটি মহল পকেট রাজনৈতিক দল বা ‘দোকান’ খুলে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে পুঁজি করে একটি মহল পকেট রাজনৈতিক দল বা ‘দোকান’ খুলে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা জুলাই শহীদদের কবরের টাকা ‘মেরে খেয়েছে’ এবং জুলাই ফান্ডের সঠিক অডিট করা হলে তাদের ‘আসল রূপ বেরিয়ে আসবে’।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদ’ কর্তৃক আয়োজিত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারের মাঝে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এনসিপির সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের আর্থিক অনিয়ম ও কবরের টাকা মেরে খাওয়া নিয়ে যে সত্য প্রকাশ করেছেন, আমরা তা বললে তাদের রাজনীতিই শেষ হয়ে যাবে। জুলাই ফান্ডের সঠিক অডিট করা হলে এদের আসল রূপ বেরিয়ে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার শেষে এখন তারা ক্ষমতা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিটি কবরের জন্য ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও ২০-৩০ হাজার টাকায় কোনো মতে কাজ শেষ করা হয়েছে, যেগুলো এখন ভঙ্গুর দশায় রয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক বিদ্বেষবশত বহু প্রকৃত বিএনপি সমর্থিত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে ১৪ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে ৮৪৩ জন তালিকাভুক্ত শহীদ পরিবারসহ আহতদের যথাযথ আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ক্যাটাগরিভেদে প্রতি মাসে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

গতকাল (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তথাকথিত জুলাই যোদ্ধাদের ব্যানার ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ‘মব কালচার’ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এক হীন চেষ্টা।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মৃতিচারণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান এবং অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিনসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন