সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

অতীত না ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান ভারতীয় হাইকমিশনারের

অতীতকে স্বীকার করে এবং পুরোনো সমস্যাগুলো সমাধান করে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১৮

অতীতকে স্বীকার করে এবং পুরোনো সমস্যাগুলো সমাধান করে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) এক উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “নিঃশর্ত পারস্পরিক আস্থা হলো যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি। প্রকৃত বন্ধু তারাই, যারা একে অপরের সমস্যাগুলো বোঝে এবং যৌথভাবে তার সমাধান বের করতে পারে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আগামী দিনে দুই দেশের মৈত্রী ও সার্বিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

দুই দেশের ব্যবধান কমাতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, “আমরা শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করি না; আমরা একই স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সমতার অংশীদার। এখানে কেউ ছোট বা কেউ বড় নয়—আমরা সবাই সমান।” সম্পর্কের স্থবিরতা কাটানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি যুক্ত করেন, “অতীত ভুলে যাবেন না, আবার অতীত আঁকড়েও পড়ে থাকবেন না; আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে তাদের বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা ভারতের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে যেকোনো সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী একই সাথে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতে যাতায়াত সহজ করতে দ্রুত এবং সম্ভব হলে তাৎক্ষণিক ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা পর্যটন ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সাথে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ আরও নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরীসহ দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন