সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ধানমন্ডি ৩২-এ হামলা ও ভাঙচুর: ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক আইন

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এ আবেদনটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশ পরে দেবেন বলে অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আবেদনে ড. ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও নাম রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত।

পাশাপাশি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, অব. কর্নেল নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদকেও এ আবেদনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদ, উসকানি ও সার্বিক সহযোগিতায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ হামলা চালায়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট নষ্ট করে এবং লুটপাট চালায়। পরবর্তীতে বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি এনে পরদিন বিকেল পর্যন্ত পুরো ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, আসামিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে এতে মদদ দেন এবং কেউ কেউ অর্থসহায়তা করেন। একইসঙ্গে পূর্বঘোষণা সত্ত্বেও তৎকালীন দায়িত্বে থাকা সরকার ভবনটি রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন