রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী, স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির ঘটনা।
নিহতরা হলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে কারমাইকেল কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী পার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং ছেলে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পিয়ম চক্রবর্তী (১২)। অবসর গ্রহণের পর গণপতি চক্রবর্তী নিজ বাড়িতেই একটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা চেম্বার পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়।
পুলিশ জানায়, দুইতলা বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। বাসার সিঁড়িতে পড়ে ছিল তাঁর স্ত্রী ও কন্যার মরদেহ এবং একটি শোবার ঘর থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর পরই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে মনে হচ্ছে ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগের। দুষ্কৃতকারীরা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। পাশাপাশি আসবাবপত্রের যেসব জায়গায় মূল্যবান সামগ্রী বা স্বর্ণালংকার থাকে, সেগুলো তছনছ ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতি ও শ্বাসরোধে হত্যা বলে মনে হচ্ছে। গামছা বা কাপড় দিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পুরো ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে এবং খুব শীঘ্রই মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।