সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

রাকসুর জিএস আম্মারের ৩.৭০ লাখ টাকার দাপ্তরিক ব্যয় নিয়ে শিবিরের ক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ঘোষিত ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার দাপ্তরিক ব্যয়কে ‘অবাস্তব’ ও ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ঘোষিত ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার দাপ্তরিক ব্যয়কে ‘অবাস্তব’ ও ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। অন্যদিকে, রাকসুর দাপ্তরিক কাগজ ও ভাউচার না দেখে মন্তব্য করাকে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন জিএস আম্মার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেট চত্বরে ছাত্রশিবিরের ৫ দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যয়ভার নিয়ে এই অভিযোগ তোলেন শিবির সভাপতি।

সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, রাকসুর জিএস দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে যে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেখিয়ে আপ্যায়ন ও যাতায়াতের কথা উল্লেখ করেছেন, তা বাস্তবসম্মত নয়। শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত ৬টি দপ্তরের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরেও ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। এত বিপুল পরিমাণ টাকা শুধু যাতায়াত ও আপ্যায়নে ব্যয় হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব।

একইসাথে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো কার্যক্রমের দায়ভার ছাত্রশিবির নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি (আম্মার) আমাদের প্যানেলের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। কেবল আমাদের প্যানেল থেকে বিজয়ী প্রতিনিধিদের কাজের দায়বদ্ধতা ছাত্রশিবির বহন করবে।

শিবির সভাপতির এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তিনি (শিবির সভাপতি) রাকসু বডির কেউ নন। তথ্য কোথায় পেয়েছেন তা তাকেই জিজ্ঞেস করুন। আমার ডকুমেন্ট ও ভাউচার কথা বলবে। আড়াই মাস পর যখন সব ভাউচারসহ হিসাব তুলে ধরা হবে, তখন প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে। তার আগেই তথ্য প্রকাশ করা গুপ্তচরবৃত্তির শামিল, কারণ রাকসুর সদস্য ছাড়া ফান্ডের খরচের বিস্তারিত কারো জানার কথা নয়।

গঠনতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে জিএস আম্মার আরও জানান, রাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংসদের দাপ্তরিক খরচ বাবদ কোষাধ্যক্ষ থেকে অর্থ গ্রহণের সাংবিধানিক এখতিয়ার তার রয়েছে। আড়াই মাসের মেয়াদ ও হিসাব বাকি থাকা সত্ত্বেও শিবিরের এই অভিযোগকে তিনি অসংগত বলে অভিহিত করেন।

ব্যয়ের বিতর্কের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু করা, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা, পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের দ্রুত তফসিল ঘোষণা।

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তার দাপ্তরিক খরচ হিসেবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন, যা থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন