গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়ায় এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমান ওরফে ‘ভাইরাস রোমান’-এর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আতিকুল ইসলাম (৩৫) মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার অব. লতিফের ছেলে। তিনি স্থানীয় ডেকু গার্মেন্টসের সামনে সরকার মার্কেটে ওষুধ ও বিকাশের ব্যবসা করেন। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে এক নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া হার্টের ওষুধ চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনাটি ওই নারী স্থানীয় যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানকে অবহিত করেন। এর জের ধরে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে আতিকুলকে মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রোমানের অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে আতিকুলকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের পর লোহার রড দিয়ে দুই উরুতে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং বিকেল ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতন চলাকালে তাঁর কাছে থাকা ব্যবসার মূলধনের ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আতিকুল আরও জানান, তাঁকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয়। পরে আতিকুলের বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঘটনার পর শ্রীপুর মডেল থানায় ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।