বাংলাদেশ ভারতের সাথে কোনো ‘স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক’ নয়, বরং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে तत्कालीन পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সাথে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। আমরা সেই সম্পর্ক চাই না। দুটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমমর্যাদার ভিত্তিতে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া উচিত, বাংলাদেশ সব দেশের সাথেই তেমন আচরণ চায়। তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন হলেও তাদের পক্ষ থেকে এখনো তেমন ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, কেবল কূটনৈতিক স্তরেই কথাবার্তা সীমাবদ্ধ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনকালের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই ধস থেকে উত্তরণে সময় লাগবে। জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার উল্লেখ করেন যে আইন-কানুনে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সংসদে নিজের অবস্থান নিরপেক্ষ দাবি করে স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি ও বিরোধী দলসমূহ সমঝোতায় এলে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে। নয়াদিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে স্পিকার মন্তব্য করেন, বিগত সরকার এতে যোগ দিতে চাইলেও অন্য পক্ষ আগ্রহী ছিল না, এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও ভারত সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ জানায়নি।
এর আগে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সভায় ভোলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।