যশোরের বাঘারপাড়ায় গভীর রাতে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে ঢুকে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ তোলার পর বাঘারপাড়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের গলগলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার গাইনের বাড়িতে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে দোহাকুলা ইউনিয়নের কথিত যুবদল সভাপতি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ৬-৭ জন ব্যক্তি সুকুমার গাইনের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযুক্তরা সুকুমারকে নাম ধরে ডাকাডাকি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করে।
ঘরে ঢুকেই তারা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পরিবারটি ঘরে গচ্ছিত থাকা ১৩ হাজার ৫০০ টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়। টাকা নেওয়ার পরও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সুকুমার গাইনের স্ত্রী শিখা গাইন অভিযোগ করে বলেন, তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভারতে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বলে— ‘তোরা ইন্ডিয়ায় চলে যাচ্ছিস, আমাদের ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। না হলে তোদের পুলিশ দিয়ে ধরে থানায় মামলা দেব।’ আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমি বিক্রি করা হয়েছিল। সেই টাকা থেকেই তারা জোর করে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে।
ঘটনার সময় পাশের বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফাকে খবর দেন। গোলাম মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে তাঁরা সুকুমারের বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে কুঠিবাড়ি বাজার এলাকায় আনিসুর রহমান, রবি ও বিল্লালসহ কয়েকজনকে দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো দোহাকুলা ইউনিয়নে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ওই এলাকায় যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক ঘটনা ঘটলেও অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছিলেন না।
ঘটনার পরদিন সোমবার উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি সভায় উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি তুলে ধরে।
সভায় উপস্থিত যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রসুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালী সরকার এবং বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে সুকুমার গাইন বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বাঘারপাড়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।