ইউরো বাংলা ফ্যাক্ট চেক টিম
দাবি:
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, যশোরের মণিরামপুরের সংখ্যালঘু হিন্দু পল্লীতে ২৫টি বাড়িতে নতুন করে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাথে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রচার করা হচ্ছে।
ফ্যাক্ট-চেক অনুসন্ধান:
প্রচারিত এই দাবি ও ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও গুজব।
১. ঘটনার প্রকৃত সত্যতা:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যশোরের কোনো ঘটনার নয়। অনুসন্ধান ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি মূলত রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া একটি শর্ট সার্কিটের পুরোনো ঘটনার। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই ভিডিওকে যশোরের মণিরামপুরের ঘটনা দাবি করে গুজব ছড়াচ্ছে।
২. পুলিশ প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, মণিরামপুরে নতুন করে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। একটি বিশেষ গ্রুপ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই গুজবটি ছড়াচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে নিয়েছি এবং গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩. ঐতিহাসিক পটভূমি ও তথ্য বিকৃতি:
এখানে উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মে মাসে অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের বাড়েদা পাড়ায় মৎস্য ঘের সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের জের ধরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ঘটেছিল, যা তৎকালীন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে সম্প্রতি (২০২৬ সালে) মণিরামপুর বা অভয়নগরে হিন্দু পল্লীতে নতুন করে কোনো আগুন বা হামলার ঘটনা ঘটেনি। পুরোনো ও ভিন্ন স্থানের ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত:
যশোরে হিন্দু পল্লীতে নতুন করে হামলা ও আগুনের দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব।
সাধারণ পাঠকের প্রতি আহ্বান:
ভিত্তিহীন বা যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো খবর ও ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে সত্যতা যাচাই (Fact Check) করে নিন।