রাজধানীতে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার পৃথক স্থানে তিনটি বাসে আগুন এবং যাত্রাবাড়ী, মহাখালী ও সচিবালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে মো. বিল্লাল (৩২) নামের এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। তবে অন্যান্য ঘটনাগুলোতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মহাখালীর আমতলী মোড়ে মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে পরপর চারটি ককটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলেও কেউ আহত হননি। বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) এ কে এম মহিন উদ্দিন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে হাজী সামাদ মার্কেটের সামনে ফ্লাইওভার থেকে ছুড়ে মারা চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে রিকশাচালক বিল্লাল আহত হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহসীন মাসুদ রানা।
ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে রাজধানীর তিনটি পৃথক স্থানে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বরে জমজম টাওয়ারের বিপরীতে চলন্ত অবস্থায় ‘শিকড় পরিবহন’-এর একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পল্লবী থানার ওসি হাসান বাছির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মিরপুর-১ নম্বরে ‘অভিজাত পরিবহন’-এর একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের ধাওয়ায় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে জানান মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
রাত ৭টা ৫০ মিনিটে মধ্য বাড্ডা ইউ-লুপের নিচে ‘আলিফ এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি দাঁড়ানো স্টাফ বাসে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নাশকতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বাড্ডা থানা পুলিশ।
এর আগের দিন শুক্রবারও (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মগবাজার ও আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণ এবং তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। টানা দুই দিনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পর রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপি জানিয়েছে, নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশের চারটি প্রধান মুখে জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি।
ইতোমধ্যে শুক্রবারে যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে এবং কাফরুলে বাসে আগুনের ঘটনায় নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক সরকার জানিয়েছেন, বাসে আগুনের ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এছাড়া আগারগাঁওয়ের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।