সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর ‘পালিয়ে বেড়াচ্ছেন’ নিহত শিক্ষার্থীর বাবা-মা

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা উসাইমং

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা উসাইমং মারমা পুলিশি হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। স্ত্রীসহ তিনি পালিয়ে বেড়ানোর দাবিও করেছেন।

নিহত শিক্ষার্থী উক্যছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে ড. ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন। তবে ওইদিন বিকেলেই বিচারক আবেদনটি খারিজ করে আদেশ দেন।

এ ঘটনার পর থেকে পুলিশি হয়রানির মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন উসাইমং মারমা। সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হাতে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেন, আতঙ্কে স্ত্রীসহ তাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিহত উক্যছাইং মারমা এর পিতা উসাইমং মারমা। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে বিমান দুর্ঘটনায় (উক্যছাইং) মারা যায়। তাই আমি বিগত ০৭-০৫-২৬ ইং তারিখে আমার ছেলের বিচার চাইতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করি, কিন্তু মামলা গ্রহণ করে পরে খারিজ করে দেন। অতঃপর শুক্রবার রাত আনুমানিক ২:০০টা কিংবা ৩:০০টার দিকে আমাকে রাঙামাটি ডিবি পুলিশ আমার নিজ এলাকায় আমার পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আমাকে এবং আমার ওয়াইফকে খুঁজছে। তাই আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই জাতির কাছে প্রশ্ন রইল মামলা করাটা কি আমার অপরাধ। সেই জন্য আপনারা আমার পাশে থাকবেন আমি এই আশাবাদ প্রত্যাশা রাখি।’

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত অন্য শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির বাবা আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে চিঠিটি সাংবাদিকদের কাছে আসে। এ ব্যাপারে উসাইমং মারমা মোবাইল ফোনে বলেন, ‘রাঙামাটিতে আমার পুরোন বাড়িতে গত শুক্রবার রাতে ডিবি পরিচয়ে একদল লোক আমাকে খুঁজতে যায়। বিষয়টি প্রতিবেশীরা আমাকে জানিয়েছেন। এরপর থেকে আমি এবং আমার স্ত্রী পালিয়ে বেড়াচ্ছি।‘

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়াতে নিজের বাড়ি বলে জানান উসাইমং মারমা। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে জানাতাম, কিন্তু ভয়ের কারণে জানাইনি। যদি তারা আমাকে ধরে রেখে দেয়!’

চিঠির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ডিবি আসার খবর শুনে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে দেশবাসীর উদ্দেশে চিঠিটি লিখেছি। আমি তো আসামি না, যে তারা আমাকে খুঁজতে যাবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙামাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘রাজস্থলীতে গত দুই মাসে আমার ডিবি পুলিশ যায়নি।’

প্রসঙ্গত মামলার আবেদনে উসাইমং মারমা লিখেছিলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমানটি তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। দুর্ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেবেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণা করেছেন।

আবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়, আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান, সি আর আবরার, শফিকুল আলমরা ওই সময় অগ্নিদগ্ধদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও উপকরণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, নির্দেশনা দিতে মারাত্মকভাবে অবহেলা করেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন