সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।

আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি। শনিবার (১৬ মে) রাত সোয়া ৮টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোনো ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের ভাষ্য, হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জিলহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানের মাংস বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা ক্ষতস্থানে সেলাই দিতেও হিমশিম খাচ্ছিলেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। হাতে, কোমরে ও পায়ে ৯-১০টির বেশি গভীর কোপের আঘাত রয়েছে। এত রক্তক্ষরণ হয়েছে যে জরুরি বিভাগে ক্যানুলা লাগাতেও চিকিৎসকদের কষ্ট হচ্ছিল।

বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন জিলহান।

হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, তার ওপর হামলা চালিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সাইমন। হামলার সময় সাইমনের বড় ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবলুও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জিলহানের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় সাইমন তাকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। পরে বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুরোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় পৌঁছালে অতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। হঠাৎ সাইমন পেছন থেকে রামদা বের করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। দুই হাত, পা ও কোমরে একের পর এক কোপ দেয় বলেন তিনি।

তবে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, অভিযুক্ত সাইমন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং ঘটনাটি রাজনৈতিকও নয়।

এদিকে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হলেও তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রকাশ্যে এ ধরনের নৃশংস হামলা এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেছে। আহত জিলহানের পরিবার হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন