সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রাইজমানি না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্লক ও হুমকির অভিযোগ

বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রাইজমানি না দিয়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ফেসবুক আইডি ও ফোন নম্বর ব্লক এবং উল্টো হুমকি দেওয়ার মতো এক উদ্বেগজনক প্রতারণার অভিযোগ

বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রাইজমানি না দিয়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ফেসবুক আইডি ও ফোন নম্বর ব্লক এবং উল্টো হুমকি দেওয়ার মতো এক উদ্বেগজনক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির ডেমরা থানা শাখার সদস্যসচিব হাজি ইউসুফ মাহমুদ তৌসিফের বিরুদ্ধে। তিনি ‘ইয়্যুথ ফোরাম অব বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে ‘ইয়্যুথ ফোরাম অব বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে ‘তারুণ্যের চোখে আগামীর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে একটি আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দারুন নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা এবং রানার-আপ হয় দনিয়া কলেজ।

পরবর্তীতে শিশু একাডেমিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ী (চ্যাম্পিয়ন) দলকে ৩০ হাজার টাকা এবং রানার-আপ দলকে ২০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক এক উপদেষ্টা এবং জামায়াতে ইসলামীর একাধিক শীর্ষ নেতাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তৌসিফ সেদিন অতিথি ও বিজয়ী-বিজিত দলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ঘটা করে ছবিও তোলেন। সেই ছবি পরবর্তীতে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি (প্রধান তথ্য কর্মকর্তা)-র মাধ্যমে সরবরাহ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারও করা হয়েছিল।

তবে অভিযোগ উঠেছে, বর্ণাঢ্য সেই আয়োজনের পর গত আট মাস অতিবাহিত হলেও চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলের শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য প্রাইজমানির টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। পাওনা টাকা দাবি করতে গেলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফোন নম্বর ও ফেসবুক আইডি ব্লক করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টাকা না দিয়ে উল্টো এখন তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মেধা বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বিতর্কের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ শিল্পকে ব্যবহার করে এমন প্রতারণা ও হীন আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য প্রাইজমানি দ্রুত ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ দলীয় পদের অপব্যবহারকারী এই নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং শিক্ষার্থীদের পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেবেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন