সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সনি হত্যার বিচারহীনতার ২৪ বছর: বুয়েটে ‘গুপ্ত প্রতিক্রিয়াশীলতা’র বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনির ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দুই যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সনি হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার না

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনির ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দুই যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সনি হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েট শাখা। একই সঙ্গে বর্তমান বুয়েট ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান রাজনীতির অনুপস্থিতির আড়ালে এক ধরনের ‘গুপ্ত প্রতিক্রিয়াশীলতা’র চর্চা ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (৮ জুন) বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর মাহমুদ স্বপ্নীল ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অবস্থান ও হুঁশিয়ারি জানানো হয়।

২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সহিংসতার মাঝে পড়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারান নিরপরাধ শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি।

দীর্ঘ চব্বিশ বছর পরও বিচারহীনতার এই অধ্যায়কে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সনির রক্তের বিচার আজও অধরা। ২০০২ সালের সেই রক্তাক্ত সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। জাতি প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার পরিবর্তে ন্যায়বিচারের পথকে জটিল ও দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর নিথর দেহের ওপর দাঁড়িয়ে যারা রাজনৈতিক সুবিধার হিসাব কষেছে, ইতিহাস তাদের দায় কখনো বিস্মৃত হবে না।

খুনিদের পাশাপাশি যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে, তাদের প্রত্যেককে অবিলম্বে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

সনি হত্যার বিচারের দাবির পাশাপাশি বর্তমান বুয়েট ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বুয়েট ছাত্রলীগ।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বুয়েটে প্রকাশ্য রাজনীতির অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী আড়ালে থেকে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। প্রগতিশীল চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সংকুচিত করার যে অদৃশ্য প্রবণতা ক্যাম্পাসজুড়ে সক্রিয়, তা শিক্ষার মৌলিক চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই নামহীন, মুখোশধারী অপতৎপরতা প্রকাশ্য সংঘাতের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে দাবি করে ছাত্রলীগ।

বুয়েট ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জানান, সনির স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা কেবল ফুলেল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হতে পারে না। তাঁর প্রতি সত্যিকারের সম্মান জানানো হবে তখনই, যখন দেশে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এমন এক নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যেখানে মুক্তচিন্তা অবদমিত হবে না, প্রগতিশীলতার পথ রুদ্ধ হবে না এবং গণতান্ত্রিক চর্চা কোনো ভয়ের কাছে পরাজিত হবে না। বিজ্ঞপ্তিতে মরহুমা সাবেকুন নাহার সনির রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন