সরকারি তিতুমীর কলেজের আবাসিক হলে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন (ইশা) এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে সিট ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত বৈধ আসনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থীকে হলে সিট বরাদ্দ দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব নেই।
এদিকে, সিট ভাগাভাগির এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মেধার ভিত্তিতে আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিতুমীর কলেজের আবাসিক হলে বৈধ আসনসংখ্যা ৫১২টি। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই ৪টি ছাত্রসংগঠন মিলে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৮৮ জন শিক্ষার্থীকে হলে সিট বরাদ্দ দিয়েছে।
নথিপত্র ও হিসাবের বাইরে গিয়ে দেওয়া এই অতিরিক্ত সিটগুলোর বিপরীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিপুল অংকের এই অর্থের কোনো হিসাব কলেজের অফিসিয়াল নথিপত্রে নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হলের সিট বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সমঝোতা ও ভাগাভাগির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির তিতুমীর কলেজ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো ধরনের অনৈতিক সিট ভাগাভাগির পক্ষে নয়।
ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ মেধা ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের সিট বরাদ্দ দিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ উপায়ে আদায় করা ৩৯ লাখ টাকার হিসাব প্রকাশ্যে আনা এবং এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলের সিট বাণিজ্যের চেনা রূপই যেন নতুন নামে ফিরে আসছে। বৈধ আসন সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে থাকায় হলের পড়াশোনার পরিবেশ ও সার্বিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সিট বণ্টন প্রক্রিয়ায় ছাত্রসংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ বন্ধ করে কলেজ প্রশাসনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে মেধা তালিকা অনুযায়ী সিট বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।