সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

চলমান দুর্যোগে প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ

চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অনুষঙ্গ ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। এ সময় তিনি মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সবাইকে একসঙ্গে দেশ গড়তে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দ্রুততম সময়ে বিতরণ করা হয়েছে।

৪. দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং সশরীরে মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও অঙ্গ সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড একযোগে মাঠে কাজ করছে।

৮. ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯. দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে এবং সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

১০. টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ৪৭ কিলোমিটার অংশকে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন