সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ফরহাদ মজহারের ‘মার্কিন সেফ হাউজ’ দাবির তোপ দাগলেন সমন্বয়ক রিফাত রশিদ

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সমন্বয়কদের আশ্রয় দেওয়া ‘সেফ হাউজ’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের এমন দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্দোলনটির অন্যতম কেন্দ্রীয়

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সমন্বয়কদের আশ্রয় দেওয়া ‘সেফ হাউজ’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের এমন দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্দোলনটির অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব রিফাত রশিদ। ফরহাদ মজহারের দাবিকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কোনটি মার্কিন দূতাবাসের সেফ হাউজ ছিল, সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রিফাত রশিদ জুলাই আন্দোলনের সময় নিজেদের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে এ প্রতিবাদ জানান।

রিফাত রশিদ জানান, আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার গোয়েন্দা সংস্থার তাড়া খেয়ে তারা ব্যক্তিগত পরিচিতি ও দেশীয় মানবাধিকারকর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আশ্রয়ের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে তারা এক মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয়ে এক রাত ছিলেন। পরবর্তীতে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বন্ধুর একটি বন্ধ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে এবং এরপর পাঠাও-এর সিইও ফাহিম-আন্দালিব দম্পতির বাসায় আশ্রয় নেন। সেখান থেকে মানবাধিকারকর্মী লেনিন ভাইয়ের মাধ্যমে তৎকালীন বিএনপি নেতা ওয়াহিদ আলমের ডিওএইচএস-এর অফিসে যান (যা সমন্বয়ে যুক্ত ছিলেন জুলকারনাইন সায়ের)। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট তারা শেরপুর-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি ফাহিম চৌধুরীর বাসা হয়ে মোহামিন পাটোয়ারীর বাসায় আশ্রয় নেন। অন্যদিকে সমন্বয়ক আব্দুল কাদের শুরুতে শিবিরের ব্যবস্থা করা শেল্টারে এবং পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তা তাইসিরের বাসায় ছিলেন।

রিফাত প্রশ্ন তোলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্র অ্যাম্বাসির তৈরি করা সেফ হাউজ কোনটা? আমরা তো সবার বাসাবাড়িতে থেকেছি, স্কুল বন্ধ থাকায় সেখানে থেকেছি নয়তো কারও ব্যক্তিগত অফিসে থেকেছি।

রিফাত রশিদ বলেন, সেফ হাউজে আশ্রয় দেওয়ার বিনিময়ে কেউ তাদের কোনো রাজনৈতিক পরামর্শ দেয়নি। বরং ২ আগস্ট রাতে ১ দফার ঘোষণার লাইন কী হতে পারে, তা নিয়ে পরামর্শ করতে তিনি নিজেই ফরহাদ মজহারকে ফোন করেছিলেন এবং তাঁর দেওয়া বেশ কিছু পরামর্শ নোটও করেছিলেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ১ দফার ঘোষণায় পরামর্শ নিয়েছিলাম, সেখানে তিনিই এই প্রসেসকে আওয়ামী বয়ানে আমেরিকান ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আলাপ দিলেন। এই বয়ানের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন।

রিফাত উল্লেখ করেন, রাজনৈতিকভাবে সচেতন তরুণরা জ্ঞান অর্জনের জন্য ফরহাদ মজহারের কাছে যেতেন এবং তাঁর ‘ভাববৈঠকী’ কেন্দ্রিক সিভিল সোসাইটির নেটওয়ার্ক থেকেই মানবাধিকারকর্মীদের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। এখন যদি তিনি নিজ কমিউনিটি ও এই সার্কেলকে ‘আমেরিকান মদদপুষ্ট’ আখ্যা দেন, তবে তরুণরা প্রতারিত বোধ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক পডকাস্টে ফরহাদ মজহার দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় মার্কিন দূতাবাস কিছু সেফ হাউজ তৈরি করে আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের মগজধোলাই করেছে এবং তাদের ওপর শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন