ঢাকার ধামরাইয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের নাশকতাবিরোধী কর্মসূচির সময় ঘটা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় একটি পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (৪৪), বাবুল হোসেন, জাহিদ ও নাজিরের নাম জানা গেছে। তাঁদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন ও জেলা যুবদল সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শনিবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি নাশকতাবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বালিথা এলাকায় পৌঁছায়। মিছিল শেষে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শরিফুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও অস্ত্রধারী হামলায় রূপ নেয়। এতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রুমা চৌধুরীর মেয়ের জামাইসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত আহত হন।
হামলার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির শেষে হঠাৎ আমাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অন্যদিকে, সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবদল নেতা রমিজুর রহমান রুমা অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ির কাছে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে প্রতিহিংসামূলকভাবে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমার মেয়ের জামাই জাহিদ ও বাবুলসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আমরাও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
তবে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক দাবি করেন, বিগত সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করা কিছু ব্যক্তি মিছিলে ফ্যাসিবাদের পক্ষে এই হামলা চালিয়েছে।
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বালিথা এলাকায় সংঘাতের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলামের পক্ষে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।