সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

যশোরে ঐতিহ্যবাহী বৈদ্যনাথতলায় সম্প্রীতির বন্ধনে ভক্তদের মিলনমেলা

পূজাপার্বণ, আনন্দ উৎসব ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে যশোর সদর উপজেলার কলেজপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘বৈদ্যনাথতলার বাৎসরিক মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ বৈশাখ) দিনব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য

পূজাপার্বণ, আনন্দ উৎসব ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে যশোর সদর উপজেলার কলেজপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘বৈদ্যনাথতলার বাৎসরিক মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ বৈশাখ) দিনব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সম্পন্ন হয়।

শ্রী শ্রী বৈদ্যনাথ কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র তরফদারের সভাপতিত্বে মেলা প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতে কেটে মেলার উদ্বোধন করেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

মেলার শুরুতে পূজা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, সহ-সভাপতি শ্রী অমলকান্তি দাস, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রবিন কুমার ঘোষ, জেলা পরিষদের প্রতিনিধি এম এ মজনু এবং ৬নং কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। এছাড়াও বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, মশিউর রহমান বাবলু, আলতাফ হোসেন, আবুল খায়ের, সরোজ কুমার কুণ্ডুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার শিকদার।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, এক অলৌকিক পাথরকে কেন্দ্র করে এই মেলার উৎপত্তি। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বাবা বৈদ্যনাথের বিগ্রহ পাথরটি একসময় স্রোতস্বিনী বুড়ী ভৈরব নদীতে ভেসে এসে কলেজপুর ঘাটে তলিয়ে যায়। পরে এক বৃদ্ধা নারী স্বপ্নাদেশ পেয়ে পাথরটি উদ্ধার করেন এবং নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর সোমবারকে কেন্দ্র করে এ পূজা ও মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।

তৎকালীন জমিদার শচী প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও তার ভ্রাতৃগণ মন্দিরের নামে ৪৫ শতক জমি দান করেছিলেন বলেও জানা যায়।

আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও বৈদ্যনাথতলার এই মেলা বাঙালির হাজার বছরের লোক-সংস্কৃতির অন্যতম বাহক হিসেবে টিকে আছে। মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনমেলা পরিলক্ষিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা রোগমুক্তি, সন্তান লাভ ও মনের বাসনা পূরণের আশায় বাবা বৈদ্যনাথের চরণে প্রার্থনা জানান।

মেলা কমিটির পক্ষ থেকে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে প্রসাদ ও খাবার বিতরণ করা হয়। মাটির পুতুল, বাঁশির সুর ও ভক্তদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে কলেজপুর গ্রাম যেন এক টুকরো চিরায়ত বাংলায় রূপ নেয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন