সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক জ্যেষ্ঠ

বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ড. খলিলুর রহমান। এর মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক পর আবারও জাতিসংঘের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামের সভাপতির আসনে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ড. খলিলুর রহমান বর্তমান সভাপতি জার্মানির আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বসংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।

গোপন ব্যালটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

জাতিসংঘের প্রচলিত আঞ্চলিক রোটেশন (পর্যায়ক্রমিক) পদ্ধতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। এই পদের জন্য বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে নির্বাচনে সর্বমোট ১৯০টি দেশ ভোট প্রদান করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। অন্যদিকে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস. কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে ড. খলিলুর রহমান সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী ঘোষিত হন। উল্লেখ্য, এই পদের জন্য প্রথমে ফিলিস্তিন প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে তারা বাংলাদেশের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়।

৩ মাসের প্রচারণায় ‘৫ বছরের সাফল্য’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাস যেখানে ২০১৬ সাল থেকে এই পদের জন্য বৈশ্বিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল, সেখানে বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর মাত্র তিন মাসের একটি সীমিত সময় হাতে পায়। ‘রেসিপ্রোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা আরএসএ (পারস্পরিক ভোট বিনিময় চুক্তি) এর কার্যকর প্রয়োগ এবং অত্যন্ত নিবিড় ও সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনে।

নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানকে বিজয়ী করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্বনেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং নিরলস কাজ করেন। নির্বাচনের আগের দিনও (১ জুন) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

৪০ বছর পর একই গৌরব

ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাংলাদেশ এই শীর্ষ পদে আসীন হলো। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান একজন সাবেক পেশাদার কূটনীতিক। তিনি কর্মজীবনের দীর্ঘ ২৫ বছর জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সংস্থায় উচ্চপদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেশ-বিদেশে অভিনন্দনের জোয়ার

ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

একই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের এই গৌরবময় অর্জনকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের ৮১তম এই ঐতিহাসিক অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এবং ড. খলিলুর রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন