জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত উপমা ও বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ওই আপত্তিকর শব্দগুলো সংসদের মূল কার্যবিবরণী থেকে অবিলম্বে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনার সময় নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকারের বক্তব্যের পর স্পিকার এই রুলিং দেন এবং সংসদের রীতি-নীতি মেনে চলার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে এমপি আব্দুস সাত্তার একটি উপমা ব্যবহার করলে তার কিছু শব্দের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান স্পিকার। তাৎক্ষণিক রুলিংয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনো কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না। আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে; সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সেগুলো কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হলো।
উল্লেখ্য, এক্সপাঞ্জ করা বক্তব্য বা শব্দ সংসদের আনুষ্ঠানিক নথির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না এবং গণমাধ্যমেও তা প্রকাশ করার নিয়ম নেই।
এর আগে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আদায়ের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ আরও বাড়বে। নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, “বড় বাজেট ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এতে সুদের হার বৃদ্ধি পাবে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে এবং প্রকারান্তরে সরকার ও করদাতাদের ওপর ঋণের চাপ সৃষ্টি হবে।” বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ কোটি টাকারও বেশি বলে সংসদকে জানান তিনি।
মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে আব্দুস সাত্তার বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হলেও মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা সরকারি করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সরকারি হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানান।
একই দিনে পয়েন্ট অব অর্ডার ও সংসদীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়। এখানে নির্ধারিত বিধি ও সংবিধান অনুসরণ করেই বক্তব্য দিতে হবে। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের সমান অধিকার থাকলেও সব কার্যক্রম কার্যপ্রণালী বিধির আলোকেই চলবে। বাজেট অধিবেশনের সময় আর্থিক আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ সীমিত থাকবে এবং যেকোনো বিষয়ে আলোচনার আগে নোটিশ দিতে হবে।
সংসদ সদস্যদের টেবিলের কাগজ দেখে একনাগাড়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার প্রবণতার প্রতিও তীব্র আপত্তি জানান স্পিকার। তিনি বলেন, সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সদস্যদের না দেখে আই-কন্টাক্ট রেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে হলে স্পিকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে স্পিকারের এই মৌখিক সতর্কতার পরেও আজ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা গেছে।