সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

প্রত্যক্ষদর্শী চলচ্চিত্র নির্মাতা আনন্দ কুটুমের দাবী: ইনু’র বিরুদ্ধে রায় ‘বাকোয়াজ’

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়কে ‘বাকোয়াজ’ ও ‘সাজানো মিথ্যা মামলা’

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়কে ‘বাকোয়াজ’ ও ‘সাজানো মিথ্যা মামলা’ বলে দাবী করেছেন সেসময়ের প্রত্যক্ষদর্শী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আনন্দ কুটুম। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে ওই সময়ের মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এই রায়কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন।

চলচ্চিত্র নির্মাতা আনন্দ কুটুম তার পোস্টে জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পুরোটা সময় তিনি নিজেই কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাসানুল হক ইনু জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছিলেন না, বরং ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তাছাড়া, কুষ্টিয়ায় যে ৬ জন নিহত হয়েছেন, তারা সবাই মারা গেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে।

আনন্দ কুটুম লেখেন, কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ। কুষ্টিয়ার কাকপক্ষী পর্যন্ত জানেন যে কুষ্টিয়া সদর আসনের কর্তৃত্ব এককভাবে লাস্ট দশ বছর ধরে হানিফের হাতে কুক্ষিগত ছিল। হাসানুল হক ইনু মূলত কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা ও দৌলতপুর) আসনের এমপি ছিলেন, যা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। খুব স্বাভাবিক সেন্স হলো, কুষ্টিয়ার কোনো পুলিশ বা আর্মি তার কমান্ড ফলো করবে না। সেই সদর আসনের হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে একিউজ করা এবং শাস্তি দেওয়াটা খুবই হাস্যকর। অনেকটা উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে।

নিজের বাড়ির জানালা থেকে পুরো শহরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, ৪ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ছিল এবং কেউ মারা যায়নি। তবে ৩ আগস্ট থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কিছু দুষ্কৃতকারী শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ঝটিকা আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরের পর কুষ্টিয়া শহর এক ‘নরকে’ রূপ নেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকেলের দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও পুলিশ লাইন্সে টার্গেট করে আক্রমণ শুরু হয়। থানার ভেতরে পুলিশকে আটকে রেখে চারদিক থেকে পেট্রোল বোমা, কেরোসিন ও আগুন ছুড়ে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে গুলি চালানো হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে জানা যায়, সেখানে ৬ জন মারা গেছেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়নি দাবী করে আনন্দ কুটুম বলেন, এই ৬ জনের কয়জন পুলিশের গুলিতে মারা গেছে আর কয়জন বাইরে থেকে আক্রমণকারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে তা কেউ জানে না। কারণ কখনো এর সঠিক ইনভেস্টিগেশনই (তদন্ত) হয়নি। অথচ আজ শুনছি এই খুনের দায়ে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনের শেষ অংশে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নিচ্ছেন না। হাসানুল হক ইনুর অন্যান্য রাজনৈতিক ভুল বা অপরাধ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনু সাহেব ধোঁয়া তুলসীগাছ না। কোনো রাজনৈতিক নেতাই পুরোপুরি পাপমুক্ত হন না। তার নিশ্চয় আরও দশটা অপরাধ আছে। কিন্তু যে অপরাধে তাকে শাস্তি দেওয়া হলো, সেটা একটা সাজানো মিথ্যা মামলা ছাড়া কিছুই না।

আইনগত ভিত্তিহীন এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সত্য ধরে রাখতেই তিনি এই প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান তুলে ধরেছেন বলে জানান।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন