সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘ওরা আমাকে চলে যেতে বলেছেন’, বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলার একদিনের মাথায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে “ওরা আমাকে চলে যেতে বলেছেন”—এমন মন্তব্য করার একদিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে গণমাধ্যমে পদত্যাগের

ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে “ওরা আমাকে চলে যেতে বলেছেন”—এমন মন্তব্য করার একদিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে গণমাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বঙ্গভবন।

শুক্রবার বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আগে বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তা জানান, দুই দিন আগে রাষ্ট্রপতি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “ওরা আমাকে চলে যেতে বলেছেন। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো করে চলে যাও।”

ওই কর্মকর্তা ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাসীন বিএনপির কথাই ইঙ্গিত করেছিলেন।

নির্বাচনের আগেই পদ ছাড়ার ইঙ্গিত

এটি অবশ্য রাষ্ট্রপতির প্রথম পদত্যাগের ইঙ্গিত ছিল না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়তে চান।

তখন তিনি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।”

পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কবে পদত্যাগ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, “নতুন সরকার আসলে… নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।”

কেন পদত্যাগ করতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতির উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।”

ঘনিষ্ঠজনদের কাছেও তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজেকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় নিজেকে অপমানিত মনে করার কথা বলেছিলেন।

এখন কী হবে?

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে স্পিকার বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার দেশে ফেরার পর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এরপরই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন