সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ: যেসব খাতে পড়বে প্রভাব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটন ডিসির সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হয়েছে।

১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির ওপর এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)। জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের বিষয়টি তদন্ত শেষে যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটির মোট আমদানিকৃত পণ্যের প্রায় ৯৯.৪ শতাংশই এই নতুন শুল্ক কাঠামোর আওতায় এসেছে। প্রধান রপ্তানি খাত বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া তৈরি পোশাক , চামড়াজাত পণ্য, জুতো এবং অন্যান্য প্রধান রপ্তানিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হবে। এটি পূর্ববিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ শুল্কহারের সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে।

নতুন এই বৈশ্বিক নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং নির্দিষ্ট কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যকে শুল্কের আওতামুক্ত রেখেছে। যেসকল পণ্য ইতোমধ্যে জাহাজে বা পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে, সেগুলো আগামী ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এই নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।

নতুন শুল্কনীতিতে বিশ্বজুড়ে শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ শুল্কহারের তালিকায় রাখা হয়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তৈরি পণ্যে শুল্ক ২.৫ শতাংশ কম হওয়ায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এবং গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে আরও বৃদ্ধি পাবে।

টিআরকিউ এবং মার্কিন তুলা ব্যবহারের সুযোগইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাসমূহ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, তবে সে ক্ষেত্রে সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়/মওকুফ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন তুলা ব্যবহার যেমন সাশ্রয়ী হবে, তেমনি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান পুরোপুরি বজায় রাখা, রপ্তানি খাতের পূর্ণ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং টেকসই বাণিজ্য পরিবেশ রক্ষায় সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাজারের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের রপ্তানি অবস্থান অক্ষুণ্ন ও গতিশীল থাকবে বলে আশা করছে সরকার।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন