সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, “লতিফ সিদ্দিকীকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আসামিপক্ষ থেকে জামিন বা অন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

আদালতে আসামিপক্ষে লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী এবং আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো। বর্তমানে কারাগারে থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবু। এছাড়া জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাটিতে মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যা এবং পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক-ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ আগস্ট।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন