আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী।
তিনি আরো বলেছেন, এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে যদি অন্যায়ভাবে ফাঁসিও দেওয়া হয়, তবে তারা তা সাদরে গ্রহণ করবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে নিজের এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
লতিফ সিদ্দিকীকে এই মামলায় আসামি করার তীব্র বিরোধিতা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, একটি সম্পূর্ণ নিষ্কলুষ মানুষটিকে অন্যায়ভাবে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাতেই ট্রাইব্যুনালে এসেছি। মামলার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা একদমই অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলার প্রেক্ষাপট ও লতিফ সিদ্দিকীর তৎকালীন পদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমি নিজেই বুঝতে পারছি না তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী! তাকে শাপলা চত্বরের গণহত্যার পরিকল্পনাকারী বলা হচ্ছে? কিন্তু তিনি তো তখন কিচেন ক্যাবিনেটেও ছিলেন না; তিনি ছিলেন পাটমন্ত্রী। পাট নিয়ে নিশ্চয়ই আর হত্যা চলে না!
ভাইয়ের ওপর আসা এই বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আক্ষেপ প্রকাশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, যে অপরাধ তিনি করেননি, সেই অপরাধের দায়ে যদি তার ফাঁসিও দেওয়া হয়, আমরা তাও সাদরে গ্রহণ করব। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ তখন তাকে এই অন্যায় থেকে মুক্তি দেবেন।
আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ও লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরানো প্রসঙ্গেও কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ে পুলিশের ব্যবহার যতটা সহনশীল ছিল, ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এসে তা বিপরীত ও অসুন্দর রূপ নেয়। একপর্যায়ে ভিড়ের মধ্যে তাকেও ধাক্কা খেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে হাতকড়া পরানোর বিষয়টি হালকাভাবে নিয়ে তিনি বলেন, হ্যান্ডকাফ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই, এটা সরকারের বিষয়। রাজনৈতিক জীবনে আমাদের হাতে বহুবার হ্যান্ডকাফ পড়েছে। বিবাহের সময় কনের হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, আমাদের কাছে রাজবন্দির হ্যান্ডকাফটাও ঠিক তেমনই মনে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ২৭ জুলাই ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানের বাসভবন থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।