সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যার বিচার এবং

আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যার বিচার এবং কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রি কার্যকরসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব দাবি জানানো হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের দেওয়া অভিনন্দনপত্রের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়।

হেফাজেত ইসলামের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন তৈরি বা পাস না করা। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) স্বীকৃতি কার্যকর করে দেশ-বিদেশের সর্বত্র কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা; বিশেষ করে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক পদের যোগ্যতা হিসেবে কওমি ডিগ্রির উল্লেখ নিশ্চিত করা। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে দেশি-বিদেশি মিশনারি সংস্থাগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আলেমদের বিরুদ্ধে দেওয়া সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে যুক্ত করা। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা, ভারতীয় মাওলানা সাদ সাহেবের আগমন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

অভিনন্দনপত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া, হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রাণ দেওয়া শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

অভিনন্দনপত্রের শেষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ‘দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের অনন্য স্মারক’ উল্লেখ করে তাঁর দীর্ঘায়ু ও নেতৃত্বের সাফল্য কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন