কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (মুহুরি) সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে ভোটের মাত্র এক দিন আগে পুলিশি গ্রেপ্তারের শিকার হয়েও সভাপতি পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আব্দুল বাতেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাঁর সমর্থিত প্যানেল মোট ১৪টি পদের মধ্যে ৮টিতে জয়লাভ করে পূর্ণাঙ্গ প্রভাব বিস্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাতে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে আব্দুল বাতেন ২০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পান ১৪০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে বাতেন সমর্থিত প্যানেলের আতিয়ার রহমান ১৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান পান ১০১ ভোট। ৩৬২ জন ভোটারের মধ্যে ৩৫৮ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
আব্দুল বাতেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিবিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকনের সাবেক আইনজীবী সহকারী। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
সমিতির সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, নির্বাচনে তাঁর বিজয় ঠেকাতেই শেষ মুহূর্তে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হওয়া সহানুভূতি শেষ পর্যন্ত ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও কুড়িগ্রাম জেলা বারের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর এভাবে গ্রেপ্তার হওয়া দুঃখজনক হলেও ভোটারদের রায় আব্দুল বাতেন ও তাঁর প্যানেলের পক্ষেই এসেছে।