গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশজুড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশের ৬৪টি জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এই কর্মসূচি একযোগে শুরু হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির (উত্তরাঞ্চল) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মাসব্যাপী এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, ঐতিহাসিক রক্তস্নাত জুলাই ফিরে এসেছে নতুন প্রত্যাশা ও প্রেরণার বার্তা নিয়ে। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই একটি অনন্য অধ্যায়। এই ঐতিহাসিক মাসকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জুলাই পদযাত্রার প্রধান দাবি দেশের সার্বিক উন্নয়নে গণভোট বাস্তবায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ৬৪টি জেলার ১০০টি নির্বাচিত উপজেলা ও পৌরসভায় এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৬ জুলাই থেকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে এই পদযাত্রায় সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বিশ্বাস করে, জুলাই শুধু একটি মাস নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, গণআকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতীক। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শহীদদের অবদান স্মরণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’-এ দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।