সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে কাদা, পাথর ও জুতা নিক্ষেপ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হালিশহরে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হালিশহরে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বির্জু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে। এ সময় গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়ার পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল, জুতা ও বড় পাথর নিক্ষেপ করা হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল সুপ্রিমোকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ ও ‘ডাকাতের রানি’ বলেও স্লোগান দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে ভিড় সরিয়ে মমতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুলিশের সামনেই অসামাজিক মৌলবাদীরা আমার গাড়িতে বড় বড় পাথর ছুড়ে মেরেছে। হামলা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, গাড়ির জানালার কাচ খোলা থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত। একই সঙ্গে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে অভিযুক্তদের সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

ঘটনার পরপরই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য হামলায় বিজেপির সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিজেপি পাথর বা জুতা নিক্ষেপের রাজনীতি সমর্থন করে না। এ ধরনের ঘটনা রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির নেত্রী ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নারী ও জ্যেষ্ঠ নেত্রী। বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষের ওপর শারীরিক হামলা বা কাদা নিক্ষেপের স্থান নেই।

সম্প্রতি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যারাকপুরের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় তৃণমূল কর্মী বির্জু কেওটকে। হেফাজতে থাকাকালীণ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে; তবে বির্জুর স্ত্রীর অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হালিশহর এলাকায় ব্যাপক গণক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠে, যার জেরে এই হামলার শিকার হন মমতা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন